দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে জুয়ার মহোৎসব; প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে ‘ফড়গুটি’ আসর



মোঃ নয়ন মিয়া, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ  


নবাবগঞ্জ উপজেলার কাচদাহ ব্রিজ সংলগ্ন বিনোদন নগর ইউনিয়ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে বসছে অবৈধ জুয়া “ফড়গুটি” খেলার বিশাল আসর। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর ধারে চলে লাখ লাখ টাকার জুয়ার রমরমা ব্যবসা, অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক ভাবে নীরব! প্রতিদিন কোটি টাকার কাছাকাছি লেনদেন!

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে—প্রতিদিন আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার লেনদেন হয় এই অবৈধ খেলায়।

খেলা শুরু হওয়ার আগেই কাচদাহ ব্রিজ ও সংলগ্ন বাজার এলাকায় তাদের নিজস্ব লোকজন “পাহারা” বসায়। জয়পুরহাট,ঘোড়াঘাট,রংপুর,গোবিন্দগঞ্জ,পাঁচবিবি, হাকিমপুরসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে জুয়াড়িরা এসে ভিড় জমায়। অভিযোগ উঠেছে,সবকিছু প্রকাশ্যে চললেও নবাবগঞ্জ পুলিশ স্টেশন কার্যত অসহায় দর্শকের ভূমিকায়! স্থানীয়দের প্রশ্ন—তাহলে কি কোনো অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় চলছে এই জুয়ার সাম্রাজ্য?

সামাজিক বিপর্যয়ের দিকে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জুয়া চলার ফলে এলাকায় ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয় তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি ও ডাকাতি। বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছে। উঠতি বয়সী কিশোর তরুণরা লোভে পড়ে জুয়ার আসরে জড়িয়ে ভবিষ্যৎ অন্ধকার করছে।

একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সন্তানরা স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে জুয়ার টেবিলে বসছে। আজ তারা জুয়াড়ি, কাল তারা অপরাধী—এ দায় কে নেবে?” আইনের শাসন কোথায়?

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রকাশ্যে এভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়া চলা মানেই আইনের চরম অবমাননা। প্রশাসনের চোখের সামনে এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের আইন-শৃঙ্খলার ওপর আস্থা ভেঙে পড়বে। এলাকাবাসীর জোর দাবি অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা,নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং জুয়ার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকা বাসী। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। নবাবগঞ্জে জুয়ার থাবা রুখতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন—নচেৎ সামাজিক বিপর্যয়।

Share on Google Plus

About সাদ্দাম হোসেন

0 $type={blogger}:

Post a Comment