আলমাছ হোসেন আওয়ালঃ
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের গণমানুষের নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির পরীক্ষিত সৈনিক সুলতান মাহমুদ বাবুকে নবগঠিত মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে দেখার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এই আকাঙ্ক্ষা জোরালো হয়ে উঠেছে।
১৯৯১ সাল থেকে বিএনপি যেসব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, প্রতিবারই এই আসনে দলের কান্ডারি ছিলেন সুলতান মাহমুদ বাবু। ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর পুরো ইসলামপুর উপজেলায় যে অভূতপূর্ব অবকাঠামোগত উন্নয়ন তিনি করেছিলেন, তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এলাকাবাসী তাঁকে 'উন্নয়নের রূপকার' উপাধিতে ভূষিত করেন। এবারের নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীকে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে তিনি তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন।
সুলতান মাহমুদ বাবু কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং তিনি ইসলামপুরের গণমানুষের নাড়ির স্পন্দন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে অধ্যয়নকালেই অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের ব্রত নিয়ে তিনি এলাকায় কাজ শুরু করেন। যৌবনে রাজনীতিতে আসা এই নেতা আজ বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও তাঁর উদ্যম কমেনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু চক্রান্ত ও সংকটের মুখোমুখি হলেও তিনি কখনও আদর্শ বিচ্যুত হননি কিংবা অন্য দলে 'ডিগবাজি' দেননি।
১/১১-এর জরুরি অবস্থার সময় যখন বাঘা বাঘা রাজনীতিকরা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, তখনও সুলতান মাহমুদ বাবু ছিলেন নিষ্কলঙ্ক। আজ পর্যন্ত তাঁর নামে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির মামলা দায়ের হয়নি। এমনকি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া নাপিতেরচর গ্রামের জমিটুকু ছাড়া রাজধানী ঢাকা কিংবা ইসলামপুরে তাঁর নিজস্ব কোনো সম্পদ বা এক ছটাক জমিও নেই। অতি সাধারণ জীবনযাপন করা এই নেতার নেই কোনো বাড়তি আয়ের উৎস, তবুও সাধ্যমতো তিনি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা যখন দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন, তখন সুলতান মাহমুদ বাবু নিজের বিশাল উদারতায় নিজ এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। এলাকাবাসীর মতে:
"শিকড় ছাড়া যেমন গাছ বাঁচে না, তেমনি বাবু এমপি ছাড়া ইসলামপুরের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা অসম্ভব। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন ভোগের নয়, ত্যাগের রাজনীতি।"
ইসলামপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, সুলতান মাহমুদ বাবুর মতো একজন সৎ, অভিজ্ঞ এবং জনবান্ধব নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করলে কেবল ইসলামপুর নয়, বরং পুরো অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই 'নেতা বানানোর কারিগর'কে যোগ্য সম্মান দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

0 $type={blogger}:
Post a Comment