দিনাজপুরের বিরামপুরে গৃহবধূকে মারধর ও শ্লীলতাহানি; থানায় অভিযোগ দায়ের



মোঃ নয়ন মিয়া, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ  

দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর এলাকার চাঁদপুর মধ্যপাড়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দুইজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত গৃহবধূ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

জানা গেছে, বিরামপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদপুর মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মোঃ জাকারিয়া মন্ডল (৪১) বিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিবেশী আল আমিন (২৮) ও রাশেদা বেগম (৪৫) এর সাথে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে অভিযুক্তরা প্রায় সময়ই তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে আসছিলেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে জাকারিয়া মন্ডল বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫) প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত রাশেদা বেগম বাঁশের লাঠি এবং আল আমিন এসএস পাইপ দিয়ে নাজমা বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও কালশিরা জখম হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে আল আমিন গৃহবধূর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। অন্যদিকে রাশেদা বেগম চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় নাজমা বেগমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে জানানো হয়। যাওয়ার আগে তারা পুনরায় হামলা,মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত গৃহবধূকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগকারী বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং আহত স্ত্রীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এর বিরামপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share on Google Plus

About সাদ্দাম হোসেন

0 $type={blogger}:

Post a Comment