আলমাস হোসেন আওয়ালঃ
দীর্ঘ চার দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। যা কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং ত্যাগ, ভালোবাসা আর ইসলামপুরবাসীর জন্য নিঃস্বার্থ কাজের এক জীবন্ত উদাহরণ। তিনি হলেন তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সুলতান মাহমুদ বাবু।
দীর্ঘ এই পথচলায় ব্যক্তিগত সুখ-আবেগ বিসর্জন দিয়ে তিনি নিজেকে সমর্পণ করেছেন গণমানুষের সেবায়। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে কেবল জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিফলন হিসেবে তিনি রাজনৈতিক উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
আলহাজ সুলতান মাহমুদ বাবুর রাজনীতি প্রতিহিংসার নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের। তিনি বিশ্বাস করেন, ভোটের রাজনীতি দিয়ে মানুষের সেবা বিচার করা যায় না। তাঁর কাছে ইসলামপুরের প্রতিটি মানুষই আপন এবং সবার জন্য সমানভাবে কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
এক বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কে ভোট দিয়েছে আর কে দেয়নি—তা তাঁর কাছে বড় বিষয় নয়; বরং ইসলামপুরকে একসাথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সুলতান মাহমুদ বাবুর হাত ধরে ইসলামপুরের ৫টি ইউনিয়নে (কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলী, সাপধরী ও নোয়ারপাড়া) উন্নয়নের এক অভাবনীয় জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে, গুঠাইল বাজার নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গুঠাইল-দেওয়ানগঞ্জ রোডের বড় বড় ব্রিজ দ্রুততম সময়ে পুনর্নির্মাণ। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নে ছোট-বড় প্রায় ৩৫টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ এবং কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৩৭টি নতুন রাস্তা তৈরি।
দুর্গম চরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি ২৯টি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করেন। এর মধ্যে বেলগাছা ও চিনাডুলী ইউনিয়নে কলেজ স্থাপন উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া বেলগাছার মন্নিয়ারচর ও নোয়ারপাড়ার কাঠমাতে ভূমিহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম স্থাপন এবং ২০০৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
অতীতের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও ইসলামপুরবাসীর জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছেন সুলতান মাহমুদ বাবু। সম্প্রতি তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলের জনগুরুত্বপূর্ণ ৩টি বড় ব্রিজের অনুমোদন পাওয়া গেছে। যা বাস্তবায়িত হলে নদীবেষ্টিত এই জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
সুলতান মাহমুদ বাবু ইসলামপুরবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানান।
ইসলামপুরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুলতান মাহমুদ বাবুর মতো দূরদর্শী ও নিঃস্বার্থ নেতা এই অঞ্চলের জন্য বড় নেয়ামত। তাঁর এই ৪০ বছরের ত্যাগী রাজনীতি ইসলামপুরের ইতিহাসে এক স্বর্ণালি অধ্যায় হয়ে থাকবে।

0 $type={blogger}:
Post a Comment