আলমাস হোসেন আওয়ালঃ
জামালপুরের ইসলামপুর সার্কেলে ১২ জুলাই ২০২৫ তারিখে যোগদানের পর থেকেই সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ইমরুল হাসান দক্ষতা, নিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ইসলামপুর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
সার্বিক কর্মদক্ষতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ পুলিশ ময়মনসিংহ রেঞ্জের সামগ্রিক কর্মমূল্যায়নে ইসলামপুর সার্কেল শ্রেষ্ঠ সার্কেল হিসেবে নির্বাচিত হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই অর্জনের পেছনে এএসপি ইমরুল হাসানের সুদৃঢ় নেতৃত্বই মূল ভূমিকা পালন করেছে।
বিশেষ করে গত দুর্গাপূজায় তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিনি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করেন, বাড়ানো হয় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং সাহসী সিদ্ধান্তে উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করেন।
একজন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য বলেন, এবার আমরা প্রথমবারের মতো শতভাগ নিরাপত্তা ও নিশ্চিন্ত পরিবেশ পেয়েছি। পুলিশের এই ভূমিকা আমাদের আস্থা বাড়িয়েছে।”
দেশের সংকটময় সময়ে ইসলামপুর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি কঠোর অথচ ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্বের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপ উপেক্ষা করে আইনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন।
সাধারণ মানুষের পুলিশিং সেবা সহজলভ্য করতে ইসলামপুর থানাকে দালালমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয় তার নেতৃত্বেই। ওনার একক প্রচেষ্টায় ইসলামপুর থানা সম্পূর্ণ দালালমুক্ত হয়েছে। সাধারণ জনগণ নির্বিঘ্নে থানার সেবা পাচ্ছে। এটা করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে বলে জানা যায়। ওনি সব বাঁধা উপেক্ষা করে থানাকে জনকল্যাণমুখী ও নিরীহ মানুষদের ভরসাস্থল করে যাচ্ছেন।থানায় সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের হয়রানি বন্ধ করে সরাসরি সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। একজন ভুক্তভোগী বলেন, আগে থানায় আসতে ভয় লাগতো। এখন সরাসরি কথা বলা যায়, দ্রুত সেবা পাওয়া যায়।
এএসপি ইমরুল হাসানের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ হলো একটি চাঞ্চল্যকর মার্ডার মামলা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আসামি গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হলে তিনি বিষয়টি গোপন না রেখে নিজে বাদীর বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আইও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে পরিবর্তিত তদন্ত ব্যবস্থায় আসামি গ্রেপ্তার সম্ভব হয়। পুলিশের এমন আত্মসমালোচনামূলক ও দায়িত্বশীল আচরণ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি উপজেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, ইসলামপুরে এখন অপরাধীরা আতঙ্কে থাকে, আর সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে থাকে—এটাই তার সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
এই ধারাবাহিক সফলতা, সাহসী সিদ্ধান্ত ও মানবিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সাম্প্রতিক মূল্যায়নে তিনি পুনরায় জেলায় শ্রেষ্ঠ সার্কেল নির্বাচিত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এমন পেশাদারিত্ব ও নৈতিক নেতৃত্ব ইসলামপুরের জন্য শুধু গর্বই নয়, বরং দেশের অন্যান্য থানার জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

0 $type={blogger}:
Post a Comment