কলকাতা প্রতিনিধিঃ
আজ ২০ শে ডিসেম্বর শনিবার, ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির আহ্বানে, ড: লালমোহন ভট্টাচার্য রোডের সংযোগস্থলে অবস্থিত, বিধান ভবনে, ১৯শে ডিসেম্বর ঠিক বিকেল সাড়ে তিনটায়, ভারতীয় সংবিধান রক্ষা করাকে কেন্দ্র করে এবং হাজার হাজার কণ্ঠস্বরের দ্বারা সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠকে সামনে রেখে, সাংবাদিকদের নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করলেন।
এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির জেনারেল সেক্রেটারী ও জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্রী গোলাম আহমেদ মীর, ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রেসিডেন্ট শ্রী শুভঙ্কর সরকার, অবজারভার বি পি সিং, জেনারেল সেক্রেটারি আশুতোষ চ্যাটার্জি, মিডিয়ার চেয়ারম্যান মিতা চক্রবর্তী, কনভেনর সুমন রায় চৌধুরী এবং অজিতেষ পান্ডে সহ অন্যান্যরা।
সাংবাদিক সম্মেলনের মূল বিষয়, কুড়ি তারিখে ,রানী রাসমণি রোডের সংযোগস্থলে, সংবিধান পাঠের যে কর্মসূচী এবং ৫৮ লক্ষ কুড়ি হাজার ভোটারের নাম বাদ যাওয়া, এরপরও ড্রাফটের কপি বেরোলে আরো কিছু মানুষের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা, মহাত্মা গান্ধী করম চাঁদ গান্ধীর নাম পরিবর্তন করা, এর সাথে সাথে ন্যাশনাল হায়ওয়া মামলা, ইডি অবৈধ ভাবে চার্জ শিট তৈরি যে করছিলেন, সেটি আদালত খারিজ করে দেওয়ায়, শুধু তাই নয় ৭ই ডিসেম্বর ব্রিগেডের মাঠে, হিন্দু বাদী সংগঠনগুলির দ্বারা আয়োজিত, গীতা পাঠের সময় একজন প্যাটিস বিক্রেতাকে, মুরগির মাংস দিয়ে প্যাটিস বিক্রি করার সময় যেভাবে গুন্ডারাজরা আক্রমণ করেছেন তাহার বিরুদ্ধে, মুসলিমদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে, মুদির শাসনকালে কুইীর বিভিন্ন অংশে নিরীহ মুসলিম নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিনামূলক অপরাধের ঘটনা ঘটায়, তাহার সাথে সাথে ভারতীয় সংবিধান কে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলন, আগামী দিন অর্থাৎ ২০ শে ডিসেম্বর ঠিক দুপুর একটাই রানী রাসমণি রোডের সংযোগস্থলে গর্জে উঠবে মানুষের কণ্ঠস্বর ও প্রতিবাদের ভাষা।
আমাদের মূল বাণী, ভারতীয় সংবিধান রক্ষা করুন এবং ভারতীয় সংবিধানের স্তত্বগুলি, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায় বিচার এবং যুক্তরাষ্ট্রীয়তা এক অভূতপূর্ব আক্রমণের মুখোমুখি, ইন্ডিয়া ন্যাশনাল কংগ্রেস জনগণকে তাদের প্রতিরক্ষায় রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন আজকের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে।
তাহারা আরো বলেন, যাহারা একটি নিরপেক্ষ শাসিত দল দ্বারা MGNRBGA এর নাম পরিবর্তন ও ধ্বংস গতকাল সংসদে তথা কথিত VG-G. RAM -G বিল পাস হওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ হতে দেখছি, MGNRBGA এর পরিবর্তে যা ২০ বছর আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন UPA-I সরকারের অধীনে পাস হয়েছিল নতুন আইনি কেবল মহাত্মা গান্ধীর নামই প্রতিস্থাপন করেন না , যা পাঁচ থেকে সাতে গান্ধী বিরোধী মানসিকতার পরিচয় দেয়, কেন্দ্র সরকারের প্রকল্পের তহবিল ১০০% থেকে কমিয়ে ৬০% করে, ১০০ দিনের কর্মসংস্থানের আইনি গ্যারান্টিকে দুর্বল করে দিয়েছে।, যাহা রাজ্যগুলির মধ্যে আর্থিক অবস্থা কমিয়ে আনে, রাজ্য সরকার রাজনৈতিক দল কৃষক সংগঠন এবং বাণিজ্য ইউনিয়নের সাথে কোন পরিবর্তন ছাড়াই এন ও এ এর সংসদীয় সংখ্যা গরিষ্ঠতার অপব্যবহার করে ।
এবার এস আই আর নিয়ে সাধারণ মানুষেরা বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনকি ভোটার লিস্ট থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, বহু মানুষ দেশ ছাড়া হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন ( ই সি আই) গতকাল পশ্চিমবঙ্গে এস আই আর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছেন, ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, এর মধ্যে ২৪ লক্ষেরও বেশি মৃত ভোটার, ২০ লক্ষ স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত ,১২ লক্ষ অনুপস্থিত এবং 2 লক্ষ্য নথিভূক্ত বা অন্যান্য কারণে বাদ পড়েছে।
তাই কলকাতা সহ শহরে জেলাগুলিতে অত্যন্ত উচ্চ হারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাহারা জানান কলকাতা উত্তর- সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র, জেলায় আগের ভোটার তালিকা থেকে ২৬ পার্সেন্ট নাম্বার পড়েছে, কলকাতা দক্ষিণ চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে- জেলায় ২৪% পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নটি বিধানসভা কেন্দ্রে 13% এবং হাওড়া জেলা ১৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ১১% এই হার গুলি পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক বাদ পড়ার হার, সেভেন পয়েন্ট সিক্স পার্সেন্টের তুলনায় অনেক বেশি। নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা করা উচিত, পাশাপাশি এখনো পর্যন্ত কতজন অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে সে তথ্য আনতে হবে জনসমক্ষে।
শুধু তাই নয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ( সি ই ও) এর দপ্তরে তথ্য অনুযায়ী খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৩০.৫৯ লক্ষ্য ভোটারকে ২২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপ /সংযুক্ত করা যায়নি বলে জানান, এই ভোটারদের ( ই আর ও) দের তরফে নোটিশ পাঠানো হবে এবং শুনানিতে হাজির হয়ে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নথি জমা দিতে বলা হবে, বর্তমান এস আই আর নির্দেশিকা অনুযায়ী 1987 এর পরে জন্মগ্রহণকারীদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য, পিতা বা মাতার জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান সংক্রান্ত নথি দিতে হবে, সাংবাদিক সম্মেলনে একের পর এক তথ্য তুলে ধরেন কেন্দ্র সরকারের দেওয়া নোটিশ অনুযায়ী , এই সকল এর বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ ও সংবিধান রক্ষার আহ্বান।

0 $type={blogger}:
Post a Comment