বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা, উমরাহ ভিসার আড়ালে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ



মোঃ সুমন মিয়াঃ


জামালপুরের মেলান্দহে উমরার ভিসা দিয়ে বিদেশে লোক পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে জুয়েল রানা নামে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জুয়েল রানা উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মোঃ ছুমির মন্ডলের ছেলে। মাত্র চার বছর আগে তিনি বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি উমরাহ ভিসার আড়ালে বিভিন্ন মানুষকে সৌদি আরবে নেওয়ার নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়াার দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা।


ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল রানা মাহমুদপুর বাজারের তনুপ্রিয়া কসমেটিক্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। প্রায় চার বছর আগে বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা ধার নিয়ে রাতারাতি দোকান রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে জুয়েল ও তার ভাই বিদেশে পালিয়ে গেছে বলে জানায় তার পরিবার। এরপর জুয়েল বাড়ীতে ফিরলেও তার ভাই বাড়ীতে ফিরেনী। এদিকে ধারের টাকা চাইতে গেলে জুয়েল ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দেন পাওনা দারদের। সেই সাথে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নেতাদের দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। জুয়েল মিয়ার পরিবারের প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো ঋণ থাকা সত্বেও হঠাৎ আর্থিক অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


বিদেশে অবস্থানরত ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন কাজের প্রলোভন দেখিয়ে উমরাহ হজ¦ করার ভিসা দিয়ে সৌদিতে লোক পাঠায় প্রতারক জুয়েল রানা। যেখানে উমরাহ হজ করতে খরচ হয় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, সেখানে জুয়েল রানা প্রতিজনের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, আকামা (ইকামা) করে দেওয়ার নামেও পরবর্তীতে চলে নান টালবাহানা। আবার অনেকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিদেশের মাটিতে বাংলার সহজ সরল মানুষকে জিম্মি করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক জুয়েল রানা।


ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, যে সব কাজের প্রলোভন দেখিয়ে জুয়েল সৌদি আরবে লোক নিয়ে যান, সেসব কাজ না দিয়ে বিভিন্ন নিম্ন মানের কাজ করাতে বাধ্য করেন সৌদিতে থাকা জুয়েলের অন্য ভাই ও তাদের লোকজন। এছাড়াও প্রবাসীদের কাজের টাকা তাদের নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না দিয়ে কৌশলে নিজের একাউন্টে নেন জুয়েল রানার। এতে অনেক প্রবাসী আর্থিকভাবে ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এদিকে এলাকাতেও তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করলে জুয়েল তার লোকজন দিয়ে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন। প্রতারক জুয়েল রানার হাতে প্রতারণার শিকার হয়ে পথে বসেছে প্রায় কয়েকশ স্বপ্নবাজ প্রবাসী। 


নয়াপাড়া এলাকার আবুল হোসেনে ছেলে প্রবাসী রবিউল ইসলাম জানান, জুয়েল গ্যাস সিলিন্ডারের কাজের কথা বলে আমাকে সৌদি নিয়ে যায়। পরে সে আমাকে কাজ দিতে পারে নাই। প্রায় তিন মাস বসে থাকার পর ১০ টাকা ঘন্টায় একটি কাজ দেয়। তিন মাস কাজ করার পর তারা আমাকে এক মাসের বেতন দেয়। পরবর্তীতে দেড় মাস বসে থাকার পর আবারো আমাকে কাজ দেয়, সেখানেও চার মাস কাজ করার পর আমাকে মাত্র তিন হাজার টাকা বেতন দেয়। আমাকে ১৫ মাসের আকামা দেয়ার কথা, কিন্ত সে আমাকে মাত্র এক বছরের আকামা করে দেয়। এখন আমার আকামার মেয়াদ নাই, সৌদিতে পালিয়ে থাকতে হয়। বাড়ী যেতে পারছি না।


ওই এলাকার স্থানীয় সওদাগর মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগে জুয়েল ও তার ভাই আমার নিকট থেকে ধার হিসেবে ৩ লক্ষ টাকা নেয়। পরবর্তীতে টাকা চাইতে গেলে তারা বিভিন্ন টালবাহানা করে সময় নেয়। এখনো টাকা দেয় নাই। আমার পাওনা টাকা না দিয়ে তারা জমি কিনে, বাড়ী করে, দামী মোটরসাইকেল দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এখন টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন লোক দিয়ে হুমকি দেয়।


আজিজপুর এলাকার শহিদুল্লাহ নামে সৌদি ফেরত আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমাকে শ্রমিক ভিসা দেয়ার কথা বলে সৌদিতে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি আমাকে উমরাহ করার ভিসা দিয়ে সৌদিতে পাঠানো হয়েছে। পরে পুলিশের হাতে ধরা খেয়ে দেশে এসেছি। এখন টাকাও দেয় না কোন কথাও বলেনা। জোর করে কোন কিছু বলতে গেলে তার গোন্ডা বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়।


শুধু রবিউল বা শহিদুল্লাহ নয় এরকম প্রায় অর্ধশত প্রবাস ফেরত এখন জুয়েল মিয়ার প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। আবার বিদেশের মাটিতে জুয়েলের সিস্টেমের কাছে জিম্মি হয়ে দেশে ফেরার জন্য দিন গুনছেন অনেক প্রবাসী।


এবিষয়ে অভিযুক্ত জুয়েল রানা বলেন, আমরা কাউকে উমরাহ করতে বাধ্য করিনা। যারা সৌদিতে যায় তারা ইচ্ছা করেই উমরার করে। এপর্যন্ত তিন থেকে চারশ লোক বিদেশে পাঠিয়েছি। আমাদের আত্মীয় ছাড়া কাউকে বিদেশ পাঠাই না। এসব অভিযোগ মিথ্যা।

Share on Google Plus

About সাদ্দাম হোসেন

0 $type={blogger}:

Post a Comment