স্টাফ রিপোর্টারঃ
মুক্তিযোদ্ধা কোটার মতো সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করতে শ্বশুরকে নিজের পিতা বানিয়ে সরকারি চাকরি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক নারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগটি ইতোমধ্যে এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্তের নাম মৌসুমী আক্তার। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি গ্রামের মোজাফফর সরকারের মেয়ে। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলায় পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তার প্রকৃত জন্মদাতা পিতার নাম মোজা সরকার হলেও চাকরি সংক্রান্ত কাগজপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে পিতার নাম পরিবর্তন করে শ্বশুরকে পিতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুযোগ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংযুক্ত নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র, পারিবারিক তথ্য ও অন্যান্য রেকর্ডে জন্মদাতা পিতার নাম ভিন্ন হলেও চাকরির নথিতে তা পরিবর্তিত। অভিযোগকারীদের দাবি, এটি সরাসরি নথি জালিয়াতি, তথ্য গোপন ও রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, মুক্তিযোদ্ধা কোটা কোনো দয়া নয়—এটি শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। সেই কোটা ভুয়া তথ্য দিয়ে আত্মসাৎ করা হলে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
এ ঘটনায় প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিরবতা প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে অবিলম্বে চাকরি বাতিলসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মৌসুমি আক্তার বলেন, আপনাদের কোন কথা থাকলে অফিসে যোগাযোগ করেন। আমার সকল কাগজপত্র ঠিক আছে।
এমন দুর্নীতির বিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ -পরিচালক জানান, এ বিষয়ে আমরা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

0 $type={blogger}:
Post a Comment