আলমাস হোসেন আওয়ালঃ
জামালপুর জেলার ৫টি উপজেলাসহ দেশের ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইসলামপুরের সাধারণ মানুষ। এই উদ্যোগকে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সুলতান মাহমুদ বাবু এমপির ধারাবাহিক উন্নয়নের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
গত ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা) উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের ৪১৮টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং নবসৃষ্ট ১৩টি উপজেলায় নতুন ১০১ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সানুগ্রহ সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আদেশক্রমে দ্রুত প্রকল্প প্রণয়ন ও পদ সৃজনের প্রস্তাব প্রেরণসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন উপসচিব।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইসলামপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ জানান, দীর্ঘ দিন ধরেই ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা তীব্র শয্যা সংকটে ভুগছিলেন। বেড না থাকায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হতো রোগীদের। স্বজনদের চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ থাকলেও বিগত সময়ে আমলাদের নজরে আনার পরও তা নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আমলে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে টানা চারবারের সংসদ সদস্য এবং সাবেক ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের বাসস্থান এই উপজেলায় হলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ভবন থাকলেও উন্নত চিকিৎসাসেবা না থাকায় মুমূর্ষু রোগী নিয়ে স্বজনদের দিশেহারা হতে হতো।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আশার আলো দেখছেন ইসলামপুরবাসী। স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আলহাজ্ব সুলতান মাহমুদ বাবু এমপি অত্র এলাকায় রাস্তা-ঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছিলেন। সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাবু এমপির নেতৃত্বে ইসলামপুরের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে এবং মানুষের ভোগান্তির চিরস্থায়ী অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

0 $type={blogger}:
Post a Comment